পটুয়াখালীতে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর পটুয়াখালী শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ রাফি নামে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পাশাপাশি শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী।
রাফি পৌর নিউ মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী মনির হাওলাদারের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। স্থানীয়রা জানায়, রাফি তাদের ঘরের পাশে একটি আতশবাজি ফোটায়। এ সময় বিস্ফোরণ এবং বিকট শব্দ হয়। বিস্ফোরণের পর আতশবাজির কিছু অংশ রাফির শ্বাসনালিতে ঢুকে যায় ও শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। এরপর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
শিশু রাফির মামা মো. বশার মিয়া জানান, মাগরিবের নামাজের পরে ভাগ্নে রাফিকে আতজবাজি ফোটাতে নিষেধ করে তিনি বাজারে গিয়েছিলেন। রাত ৮টার দিকে খবর পান আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে রাফির শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিক তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাফির বাবা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে ঈদের আনন্দ করছিল, কে জানত এই আনন্দই তার জীবনের শেষ হবে।’ এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক নয়ন সরকার জানান, আতশবাজির একটি অংশ রাফির শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে মারাত্মক আঘাত করেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে আনার পথেই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির।
এদিকে পটুয়াখালীতে আরও একটি এলাকায় আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের হকতুল্লা তালুকদার বাড়িতে আতশবাজি ফোটানোর সময় বেল্লাল (১৬) ও রাব্বি (১৫) নামের দুই কিশোর আহত হয়েছে। আহত দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
আহত বেল্লাল ও রাব্বির স্বজন সিদ্দিকুর রহমান জানান, বেলাল ও রাব্বি একটি আতশবাজি হাতে নিয়ে ফোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় আতশবাজিটি হাতে রাখা অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়। এতে বেলালের ডান হাতের তালু ও আঙ্গুলসহ একটি অংশ ঝলসে যায় এবং বাম চোখে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। আর রাব্বির হাতের তালু ও আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত দুজনকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেকানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এ ধরনের দুর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক। অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।